চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) চুক্তির চলমান প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রুল খারিজ করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকারের নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অপারেটর নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা প্রশ্নে দায়ের করা একটি রিটের শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে দ্বিধাবিভক্ত রায় আসে। তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন। তিনি তার রায়ে উল্লেখ করেন, বন্দর পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের চুক্তিতে পর্যাপ্ত আইনগত কাঠামো ও স্বচ্ছতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।
অন্যদিকে, একই বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন ও সরকারি নীতিমালার আওতায় থেকেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারে।
দ্বিধাবিভক্ত রায়ের পর সংবিধান ও আদালতের বিধি অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান। একক বেঞ্চে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বিস্তারিত শুনানি শেষে আদালত রিট খারিজ করে চূড়ান্তভাবে চুক্তির বৈধতা নিশ্চিত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। তিনি আদালতে বলেন, দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, কনটেইনার জট নিরসন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বিদেশি অপারেটরের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তারা চুক্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এনসিটি এই বন্দরের অন্যতম আধুনিক ও ব্যস্ত কনটেইনার টার্মিনাল। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে এনসিটি পরিচালিত হলে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে, জাহাজজট কমবে এবং ব্যবসায়ীরা দ্রুত পণ্য খালাসের সুবিধা পাবেন।
| ফজর | ৪:০৯ - ৫:২৮ ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৫৯ - ৪:৩১ দুপুর |
| আছর | ৪:৩২ - ৬:২৫ বিকাল |
| মাগরিব | ৬:২৭ - ৭:৪৫ সন্ধ্যা |
| এশা | ৭:৪৬ - ৪:০৮ রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |