ইমন সরকার, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ফুটবলের উত্তেজনায় মুখর ছিল পুরো ভালুকা। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ভালুকা স্পোর্টস একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক রোমাঞ্চকর প্রীতি ফুটবল ম্যাচে নাইজেরিয়ান ফরেন ফুটবল একাদশ টাইব্রেকারে জয় ছিনিয়ে নেয়।
নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ভাগ্য নির্ধারণী টাইব্রেকারে তারা স্বাগতিক ভালুকা স্পোর্টস ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয়।
এটাই ছিল ভালুকার ইতিহাসে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে এই ম্যাচ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। হাজারো দর্শক, খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে ভালুকা এখন কেবল স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলের আবহেও প্রাণবন্ত হতে প্রস্তুত।
পুরো ম্যাচজুড়ে মাঠে ছিল দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস আর শ্লোগানের ঢেউ। খেলোয়াড়দের প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিরোধ ও সেভে দর্শকদের শ্বাসরুদ্ধকর মনোযোগ ফুটবলের প্রতি ভালুকাবাসীর ভালোবাসাকে প্রমাণ করে।
ম্যাচ শেষে ভালুকা স্পোর্টস ফুটবল একাদশের অধিনায়ক বলেন, “জয়-পরাজয় খেলারই অংশ, তবে এমন আন্তর্জাতিক মানের দলের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন। আমরা অনেক কিছু শিখেছি।”
নাইজেরিয়ান দলের গোলরক্ষক বলেন, “ভালুকার মানুষ অবিশ্বাস্য রকম আন্তরিক ও খেলাপ্রেমী। এখানকার দর্শকদের ভালোবাসা আমাদের মুগ্ধ করেছে।”
মাঠে উপস্থিত দর্শক সুমন মিয়া বলেন, “এমন মানসম্পন্ন খেলা আমাদের এলাকায় দেখা যায় খুব কম। আজকের আয়োজন তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।”
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম। তিনি বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি সামাজিক ঐক্য ও ইতিবাচক চিন্তার অনুপ্রেরণা। ভালুকা স্পোর্টস একাডেমির এই উদ্যোগ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।”
খেলাটিতে সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ভালুকা স্পোর্টস একাডেমীর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মামুন। তিনি বলেন, “ভালুকার তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের সম্ভাবনা প্রমাণ করছে। আমরা চাই, এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হোক।”
উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও পৌর মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান চৌধুরী মাসুদ। তিনি বলেন, “তরুণদের মাঠে ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। আজকের আয়োজন সেই প্রচেষ্টার সফল উদাহরণ।”
ভালুকা স্পোর্টস একাডেমির এ আয়োজনকে ঘিরে পুরো উপজেলা জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই মেতে ওঠে এই ফুটবল উৎসবে।
এ আয়োজন স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে রাস্তাঘাটে ছিল বিক্রেতাদের ভিড়, চায়ের দোকানে চলছিল ম্যাচ বিশ্লেষণ।
সবচেয়ে বড় কথা, ভালুকার ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলা, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের নতুন চেতনা ছড়িয়ে দিয়েছে।
খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার-আপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। হাসিমুখে দুই দলের খেলোয়াড়দের করমর্দন ফুটবলের সত্যিকারের সৌন্দর্যকে মনে করিয়ে দেয়।
ভালুকার মাঠে ফুটে ওঠা এই ঐক্য, স্পোর্টসম্যানশিপ ও উদ্দীপনা যেন আগামী দিনের তরুণদের জন্য এক অনন্ত প্রেরণার উৎস হয়ে থাকে।
ভালুকা প্রমাণ করল সঠিক প্রেরণা ও নেতৃত্ব পেলে গ্রামের মাঠও আন্তর্জাতিক আবেগে আলোকিত হতে পারে।
| ফজর | ৪:০৯ - ৫:২৮ ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৫৯ - ৪:৩১ দুপুর |
| আছর | ৪:৩২ - ৬:২৫ বিকাল |
| মাগরিব | ৬:২৭ - ৭:৪৫ সন্ধ্যা |
| এশা | ৭:৪৬ - ৪:০৮ রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |