নগরের মাঝিরঘাটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে পটিয়ার সাবেক এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ছেলে মোহাম্মদ রিয়াদ আহসান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ রফিক।
রোববার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের মালিক রফিক। তাঁর প্রতিষ্ঠানটি নগরের ৫৭০ স্ট্যান্ড রোডের মাঝিরঘাট এলাকায় অবস্থিত।
লিখিত বক্তব্যে রফিক অভিযোগ করেন, গত ২ নভেম্বর দুপুরে রিয়াদ আহসানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১১ জন তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর ছেলে হৃদয় এবং প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মী সাগর ও মালেককে মারধর করা হয়। পরে অফিসে ঢুকে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকেও মারধর করা হয়।
রফিকের দাবি, এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় অফিসের কাচ ভাঙচুর করা হলে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।
ঘটনার পুরো বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান বলেও দাবি করেন রফিক।
তিনি জানান, ঘটনার পর সদরঘাট থানায় গেলে পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করে। পরে গত ৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের দ্বিতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. মামলা নম্বর ৩৮৭/২০২৬ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে থানায় এজাহার হিসেবে গণ্য করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
পুরোনো চেক নিয়ে ব্যবসায়িক বিরোধ
সংবাদ সম্মেলনে রফিক বলেন, রিয়াদ আহসানের সঙ্গে তাঁর আগে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। ২০২২ সালের একটি চেক নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ওই চেকের বিপরীতে ১০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে আরটিজিএস পদ্ধতিতে টাকা পরিশোধ করেছেন।
তাঁর দাবি, টাকা পরিশোধের পরও চেকটি ফেরত দেওয়া হয়নি। ওই চেক ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে আগে মামলা করা হলেও আদালত তা খারিজ করে দেন। এ-সংক্রান্ত ব্যাংক লেনদেনের নথি ও আদালতের আদেশের কপি তাঁর কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাতিল হয় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার অর্ডার
রফিক আরও অভিযোগ করেন, একসময় ব্যবসায়িক কাজে যুক্ত থাকার সুবাদে রিয়াদ তাঁর মুঠোফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক তথ্য ও যোগাযোগের নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে তাঁর তৎকালীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে পাওয়া ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার পিপি ওভেন ব্যাগের অর্ডার বাতিল হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রফিক বলেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি রিয়াদ আহসান ও তাঁর সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, ব্যাংকের আরটিজিএস লেনদেনের নথি ও আদালতের আদেশের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি। নিজের পরিবার, কর্মচারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
| ফজর | ৪:৩৮ - ৫:৫৩ ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৩৮- ২:৫২ দুপুর |
| আছর | ২:৫৩ - ৫:১৮ বিকাল |
| মাগরিব | ৫:১৯-৬:৩৪ সন্ধ্যা |
| এশা | ৬:৩৫-৪:৩৭ রাত |
| জুম্মা | ১১:৩৮-২:৫২ দুপুর |