চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা জুড়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি ও পাহাড়ি এলাকা থেকে মাটি কেটে ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে সড়ক, সেতু, বাঁধ এবং কৃষিজমি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরম্বা, পুটিভিলা, পদুয়া, বড়হাতিয়া ও চুনতি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চক্র ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত এসব এলাকায় মাটি কাটার কার্যক্রম চলে এবং ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে তা পরিবহন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ীভাবে মাটি কাটা বন্ধ করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানে জব্দ হওয়া গাড়িগুলো জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার পর আবার একই কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার কৃষকদের মতে, ফসলি জমি থেকে ৫ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কাটার ফলে পাশের জমিও ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাতে মাটি কাটার পরদিন সকালে শতাধিক ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে তা পরিবহন করা হয়। ফলে এলাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ধুলাবালুর কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. হাসানুজ্জামান হায়দার, লোহাগাড়া ট্রাফিক জোন ইনচার্জ বলেন, জনবল সংকটের কারণে সব জায়গায় একসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। এরপরও নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আব্দুল জলিল, লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অনেক সময় অভিযোগের ভিত্তিতে গিয়ে ঘটনাস্থলে কিছু পাওয়া যায় না। তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিবেশ ও কৃষি খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
| ফজর | ৪:০৯ - ৫:২৮ ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৫৯ - ৪:৩১ দুপুর |
| আছর | ৪:৩২ - ৬:২৫ বিকাল |
| মাগরিব | ৬:২৭ - ৭:৪৫ সন্ধ্যা |
| এশা | ৭:৪৬ - ৪:০৮ রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |