মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কোনো দুর্বলতা বা অবহেলা ছিল কি না, তা জানতে চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ ঘটনায় কোনো অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে কমিটি।
রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ১৪ দিন আগে সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় দুই বাংলাদেশির নাম থাকলেও বিষয়টি যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কনস্যুলেট আগে বিষয়টি জানতে পারেনি কেন, এ ক্ষেত্রে কোনো দুর্বলতা বা অবহেলা ছিল কি না এবং সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি আগে জানানো হয়নি কেন—এসব প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁর মতে, পুরো ঘটনায় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্বলতার বিষয়টি সামনে এসেছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ১৪ দিন আগে তথ্য বিনিময়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট তালিকাটি যথাযথভাবে শনাক্ত করা হয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, তালিকায় বন্দীদের যে শ্রেণিতে রাখা হয়েছিল, তা দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, তাঁদের ছয় মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। এ বিষয়ে সৌদি আরবের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব চেয়েছে মন্ত্রণালয়। জবাব পাওয়ার পর তা সংসদীয় কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে।
কনস্যুলেটের কোনো অবহেলা ছিল কি না, থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে কমিটি।
বৈঠকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের বিষয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ১ থেকে ২ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হন।
বৈঠক শেষে জহরত আদিব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার বাংলাদেশি নারী শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য পাসপোর্ট নিতে আসা কর্মীদের কাছে জানতে চাওয়া হয় এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও জরিপ করা হয়।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৪ জন নারী গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। নির্যাতনের হার ১ থেকে ২ শতাংশ শুনতে কম মনে হলেও প্রকৃত সংখ্যার দিক থেকে বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়েছে।
জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম অংশ নেন। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সূত্র: প্রথম আলো
| ফজর | ৪:৩৮ - ৫:৫৩ ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৩৮- ২:৫২ দুপুর |
| আছর | ২:৫৩ - ৫:১৮ বিকাল |
| মাগরিব | ৫:১৯-৬:৩৪ সন্ধ্যা |
| এশা | ৬:৩৫-৪:৩৭ রাত |
| জুম্মা | ১১:৩৮-২:৫২ দুপুর |