| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

নগর সরকার প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি

রিপোর্টারের নামঃ জিয়াউল হক ইমন
  • আপডেট টাইম : 07-11-2026 ইং
  • 404 বার পঠিত
নগর সরকার প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি
ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, নগর সরকার প্রতিষ্ঠা ও সমন্বিত নগর উন্নয়ন নিয়ে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত সেমিনারে অতিথিরা।

চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়ন, সমন্বিত অবকাঠামো নির্মাণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ‘নগর সরকার’ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, নগর উন্নয়নে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো না থাকায় সম্ভাবনাময় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।

গতকাল নগরীর আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হলে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ), বাংলাদেশ চ্যাপ্টার আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম: ইকোনমিক গেটওয়ে অ্যান্ড লাইফলাইন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চসিক প্রশাসক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আইনি দায়িত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই সমন্বিত পরিকল্পনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব। জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্ণফুলীর অপর পাড়ে পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে এ ধরনের কাঠামো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিজেএ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি পারভীন এফ. চৌধুরী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সমুদ্রবন্দর, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্পের কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং বিকেন্দ্রীকরণের অভাবে নগরীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সেমিনারের উদ্দেশ্য তুলে ধরে সিজেএ মহাসচিব ওসমান গনি মনসুর বলেন, বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনা নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সেমিনার থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, সিঙ্গাপুর বা সাংহাইকে অনুকরণ না করে চট্টগ্রামের নিজস্ব সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও অর্থনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নগরীকে গড়ে তুলতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম তার প্রাপ্য গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এপি বাংলাদেশের ব্যুরো প্রধান জুলহাস আলমের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি মাতারবাড়ী বন্দর ও বে টার্মিনারের সমন্বিত ব্যবহার, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক লজিস্টিকস সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, মাতারবাড়ী বন্দর ও বে টার্মিনারের কার্যকর সমন্বয় করা গেলে নেপালের মতো স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর পণ্য পরিবহনের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য, নেপাল ও মিয়ানমারে লজিস্টিকস সেবা সম্প্রসারণ, পাঁচটি মোটরওয়ে নির্মাণ এবং নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, আন্তর্জাতিক বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব, অধ্যাপক মোহিত উল আলম, অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া ও ডা. মইনুল ইসলাম মাহমুদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক, গবেষক, পরিকল্পনাবিদ ও শিক্ষাবিদরা ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টায় নামিয়ে আনা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ CHD News 24 - সাথে থাকুন পাশে আছি
ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট আইটি নগর