জাপানে চলমান অস্বাভাবিক ও রেকর্ড মাত্রার ভারী তুষারপাতে দেশজুড়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এ দুর্যোগে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি। মঙ্গলবার সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা এএফপি।
নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই প্রবীণ। বিশেষ করে একা বসবাসকারী বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। আওমোরি প্রদেশের আজিগাসাওয়া এলাকায় ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ নিজ বাড়ির সামনে প্রায় তিন মিটার উঁচু তুষারের স্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় পুলিশ জানায়, ছাদ থেকে জমে থাকা বরফ ধসে পড়ায় তিনি শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে একটি অ্যালুমিনিয়ামের বেলচা উদ্ধার করা হয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে—তিনি নিজেই তুষার সরানোর চেষ্টা করছিলেন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল আওমোরি, যেখানে দুর্গম এলাকায় এখনো ৪ দশমিক ৫ মিটার (প্রায় ১৫ ফুট) পর্যন্ত তুষার জমে রয়েছে। আঞ্চলিক রাজধানী আওমোরি শহরেই অনেক জায়গায় বরফের স্তর ১ দশমিক ৮ মিটার ছাড়িয়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে, বিদ্যুৎ ও জরুরি সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় উদ্ধার ও তুষার অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করতে কেন্দ্রীয় সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সোমবার আওমোরির গভর্নর সোইচিরো মিয়াশিতা একা বসবাসকারী বয়স্কদের সহায়তা ও তুষার সরানোর কাজে সামরিক বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করেন। বৈঠকে তিনি তুষারপাতজনিত দুর্ঘটনা, ভবন ধস ও প্রাণহানি রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপান সাগর উপকূলজুড়ে শক্তিশালী শীতল বায়ুপ্রবাহের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ তুষার জমেছে। আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ হলেই ছাদে জমে থাকা বরফ হঠাৎ ধসে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আওমোরির গভর্নর সতর্ক করে বলেছেন, ভবনের ছাদে জমে থাকা অতিরিক্ত তুষারের চাপে ধসের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বরফ গলে পড়ার সময় মানুষ চাপা পড়লে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাই জনগণকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
| ফজর | ৪:০৯ - ৫:২৮ ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৫৯ - ৪:৩১ দুপুর |
| আছর | ৪:৩২ - ৬:২৫ বিকাল |
| মাগরিব | ৬:২৭ - ৭:৪৫ সন্ধ্যা |
| এশা | ৭:৪৬ - ৪:০৮ রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |