মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধেরও প্রভাব রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই তাঁর। নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পেছনে ইরান যুদ্ধের কোনো ভূমিকা ছিল কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধও এর একটি কারণ।’
ইরান যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও জানান ট্রাম্প। তবে নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরানোর সম্ভাবনা নাকচ করেন তিনি। সাংবাদিকদের এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমার মনে হয়, তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।’
ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে পরিচিত হেগসেথ। তবে যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার মধ্যে তাঁর দায়িত্বে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানা হচ্ছে। সে সময় ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের জেরে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায়। নির্বাচনের পরদিনই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডকে বরখাস্ত করেছিলেন।
তবে এবার ট্রাম্প এখনই হেগসেথকে সরানোর পথে হাঁটছেন না। যদিও তাঁর একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুদ্ধের দায় নির্ধারণের অংশ হিসেবে হেগসেথকে বরখাস্তের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। ওই উপদেষ্টার ভাষ্য, যুদ্ধের জন্য কাউকে না কাউকে দায় নিতে হবে, আর ট্রাম্প নিজে সেই দায় নিতে চাইবেন না।
গত ২৩ মার্চ হেগসেথের যুদ্ধ শুরুর পক্ষে অবস্থানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনিই প্রথম ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার আশঙ্কাই ছিল সামরিক অভিযানের অন্যতম কারণ।
এদিকে নির্বাচনের পরদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, ইরান যুদ্ধ আদৌ সার্থক ছিল কি না। তাঁর বক্তব্যে যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য এবং রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও হেগসেথের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য টমাস ম্যাসি এ বছরের শুরুর দিকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব জমা দেন। ম্যাসির অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে হেগসেথ তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
রিপাবলিকান সিনেটর টম টিলিসও হেগসেথের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, হেগসেথকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
টিলিসের মতে, আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে হেগসেথের টানাপোড়েনের সম্পর্ক প্রতিরক্ষা খাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের ব্যয় প্রস্তাব পাসের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। নির্বাচনের পর হেগসেথ কংগ্রেসের কাছে প্রতিরক্ষা খাতের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি কি না, তা পর্যালোচনার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হতে বাকি রয়েছে মাত্র ৬০ দিন। ফলে ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি হেগসেথের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নোট: প্রকাশের আগে মূল সংবাদসূত্র ও তারিখ যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে নির্বাচনের সময়কাল, ফলাফল, যুদ্ধ শুরুর তারিখ এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করুন। আপনার দেওয়া লেখার তথ্যের বাইরে নতুন কোনো তথ্য যোগ করা হয়নি।
আমার সম্পাদকীয় পছন্দ: প্রথম হেডলাইনটি ব্যবহার করুন—ছোট, তথ্যনির্ভর এবং একই সঙ্গে পাঠকের আগ্রহ তৈরি করে।
| ফজর | ৪:৩৮ - ৫:৫৩ ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৩৮- ২:৫২ দুপুর |
| আছর | ২:৫৩ - ৫:১৮ বিকাল |
| মাগরিব | ৫:১৯-৬:৩৪ সন্ধ্যা |
| এশা | ৬:৩৫-৪:৩৭ রাত |
| জুম্মা | ১১:৩৮-২:৫২ দুপুর |