| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

৮ হাজার কোটি টাকা উধাও

রিপোর্টারের নামঃ Masud Rana
  • আপডেট টাইম : 16-08-2025 ইং
  • 180911 বার পঠিত
৮ হাজার কোটি টাকা উধাও
ছবির ক্যাপশন: ৮ হাজার কোটি টাকা উধাও

খেলাপি ঋণ ও রপ্তানি আয়ের অনিয়মে কেয়া কসমেটিক্স বনাম ব্যাংকগুলো


দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেয়া কসমেটিক্স লিমিটেড চারটি ব্যাংকের সঙ্গে আর্থিক জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, কেয়া গ্রুপের ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৮,০৫২ কোটি টাকা) রপ্তানি আয় নির্ধারিত ফরেন কারেন্সি (এফসি) অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি। ব্যাংকগুলো বলছে, এত বড় অঙ্কের অর্থের অস্তিত্বই নেই। ফলে উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে দায় চাপাচ্ছে।


তদন্ত দাবি ও অভিযোগ


কেয়া গ্রুপ সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিএসইসি ও ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ২০০৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই অনিয়ম ঘটেছে। এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকারকে বিষয়টি জানানো হলেও সাড়া মেলেনি। বর্তমানে বিএসইসি একটি অডিট ফার্ম নিয়োগ দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।


ক্ষতির শঙ্কা


কেয়া গ্রুপের দাবি, বিপুল অঙ্কের রপ্তানি আয় এফসি অ্যাকাউন্টে জমা না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি ঝুঁকির মধ্যে, যাদের মধ্যে ১,০০০ প্রতিবন্ধী কর্মী রয়েছেন। এছাড়া ৫০ হাজার শেয়ারহোল্ডারের বিনিয়োগও হুমকির মুখে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় মাসে গড়ে ১ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


কেয়া গ্রুপের হিসাব অনুযায়ী অনিয়মের চিত্র

সাউথইস্ট ব্যাংক (২০০৪-২০২৩): রপ্তানি আয় ১০১.৯৬ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৩৯.৪৬ কোটি ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি। বিপরীতে ৮০ কোটি ডলার আমদানি ঋণে রূপান্তরিত।

পূবালী ব্যাংক (২০০৭-২০২৩): রপ্তানি আয় ২০.১৯ কোটি ডলার। কোনো অর্থ এফসি অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি। বিপরীতে ৫.৩২ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক (২০০৯-২০২৩): রপ্তানি আয় ৭ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৫.৮৫ কোটি ডলার জমা হয়নি। বিপরীতে ৩.৪৫ কোটি ডলার ঋণে রূপান্তর।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক (২০০৮-২০১৪): রপ্তানি আয় ৬৫ লাখ ডলার। এফসি অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি। বিপরীতে ৪১ লাখ ডলার ঋণে রূপান্তর।


পক্ষগুলোর অবস্থান


কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান বলেন,

“আমাদের রপ্তানি আয়ের ৬৬ কোটি ডলার ব্যাংক এফসি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেনি। এই অর্থ জমা হলে ঋণের পরিমাণ দাঁড়াত না ২,৭০০ কোটি টাকা। ব্যাংকের হিসাবের গরমিল দেশের ডলার রিজার্ভের জন্য গুরুতর হুমকি।”


অন্যদিকে সাউথইস্ট ব্যাংক দাবি করেছে, তাদের অডিটে এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি। পূবালী ও ন্যাশনাল ব্যাংক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। আর স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক অভিযোগকে “ভুল তথ্য” বলে উল্লেখ করেছে|

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ CHD News 24 - সাথে থাকুন পাশে আছি
ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট আইটি নগর