সীতাকুণ্ড:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা একটি বিপন্ন প্রজাতির মৃত ডলফিন তিন দিন ধরে পড়ে থাকায় পর্যটকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ডলফিনটির দেহ পচে গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সেটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে ডলফিনটি সৈকতের একটি দোকানের পেছনে পড়ে থাকে। পরে কিছু ব্যবসায়ী সেটিকে এক পাশে সরিয়ে রাখলেও কেউ স্থানীয় প্রশাসনকে তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি।
ডলফিনটির ওজন প্রায় ১০০ কেজির মতো বলে জানা গেছে। আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় তার অন্ত্র-ভুঁড়ি বাইরে বেরিয়ে আসে, ফলে দ্রুত পচন ধরে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে গোটা সৈকত এলাকায়। এক ব্যবসায়ী বলেন, “ডলফিনটির গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে আমি চারবার বমি করেছি।”
এ ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে অনেকেই সৈকত এলাকা থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, তিনি বুধবার বিষয়টি জানতে পারেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণিসম্পদ ও বন বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় ডলফিনটি উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কল্লোল বড়ুয়া বলেন, এটি একটি মিঠা পানির শুশুক বা ডলফিন। কীভাবে প্রাণীটি মারা গেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ জানতে ডলফিনটির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রে জাহাজ বা বড় কোনো বস্তুর ধাক্কায় এটি মারা যেতে পারে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাছিম বিল্লাহ্ জানান, শুশুক বা গাঙ্গেয় ডলফিন বর্তমানে বাংলাদেশে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে পরিচিত। শান্ত স্বভাবের এই বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণী নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশের স্বাস্থ্য সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। তার ভাষায়, “যে নদীতে ডলফিন আছে, সে নদীর পরিবেশ এখনো ভালো।”
এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মাঝে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
| ফজর | ৪:০৯ - ৫:২৮ ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৫৯ - ৪:৩১ দুপুর |
| আছর | ৪:৩২ - ৬:২৫ বিকাল |
| মাগরিব | ৬:২৭ - ৭:৪৫ সন্ধ্যা |
| এশা | ৭:৪৬ - ৪:০৮ রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |