| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ভালুকায় আগুনে পুড়ল ৭ ঘর, অক্ষত কোরআনের হরফ

রিপোর্টারের নামঃ ইমন সরকার, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : 19-05-2026 ইং
  • 36150 বার পঠিত
ভালুকায় আগুনে পুড়ল ৭ ঘর, অক্ষত কোরআনের হরফ
ছবির ক্যাপশন: আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ধ্বংসস্তূপে অক্ষত কোরআনের হরফ।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাতটি বসতঘর, মূল্যবান আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও বহু বছরের কষ্টার্জিত সম্পদ। আগুনের ভয়াবহতায় যখন সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তখন সেই ছাইয়ের স্তূপের মধ্যেই অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে পবিত্র কোরআন শরীফের হরফ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিস্ময় ও আবেগঘন পরিবেশ।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ হবিরবাড়ী গ্রামের খন্দকার পাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, এতে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের টিনশেড ঘর থেকে হঠাৎ বিকট শব্দের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে আশরাফুল ইসলামের চারটি এবং মিতু আক্তারের তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, শিক্ষাগত সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ভস্মীভূত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আশরাফুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“আমার বসতবাড়ির ৪টি ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমানে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই বা এক মুঠো খাবারও অবশিষ্ট নেই। তবে এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আল্লাহর কালামের হরফগুলো অক্ষত দেখে মনে এক অন্যরকম সান্ত্বনা পাচ্ছি।”

অপর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মিতু আক্তারের মা বলেন,

“হঠাৎ আগুন দেখে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। জীবনের সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে, কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।”

স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ খন্দকার বলেন,

“হঠাৎ লাগা এই আগুনে দুটি পরিবারের সবকিছু পুড়ে গেছে। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে একেবারে নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আগুনে সবকিছু শেষ হলেও কোরআন শরীফের পাতাগুলোর এই অবস্থা সবাইকে বিস্মিত করেছে।”

এ বিষয়ে ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন,

“খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি রওনা হয়েছিল। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ফলে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি।”

এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা না পেলে পরিবার দুটি চরম মানবিক সংকটে পড়বে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ CHD News 24 - সাথে থাকুন পাশে আছি
ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট আইটি নগর