যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আক্রমণাত্মক ও বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একসময় তাঁর সরাসরি বক্তব্য ও প্রতিপক্ষকে আক্রমণের ধরন সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হলেও এখন মার্কিন ভোটারদের একটি অংশ এ ধরনের রাজনীতিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সম্প্রতি প্রায় ৪০ বছর পর টেক্সাসে ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে প্রথম মার্কিন সিনেট আসনে জয়ী হওয়ার পর নবনির্বাচিত সিনেটর জেমস ট্যালারিকো বলেন, মানুষ পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের এ রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবার, বন্ধুত্ব ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে কটাক্ষ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ‘ক্রুকেড হিলারি’, ‘লিটল মার্কো’ ও ‘লাইং টেড’-এর মতো বিভিন্ন ডাকনাম ব্যবহার করে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতেন। তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ এসব বক্তব্যকে প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে সরাসরি ও অকপট যোগাযোগ হিসেবে দেখেছিলেন।
টি পার্টি আন্দোলনের সময় অসন্তুষ্ট রক্ষণশীল ভোটারদের একত্রিত করে ট্রাম্প ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনকে শক্তিশালী করেন। অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং মুক্তবাণিজ্য নীতির বিরোধিতার মতো প্রতিশ্রুতি তাঁর সমর্থকদের আকৃষ্ট করেছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম নিয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে লেখকের বিশ্লেষণ। একই সঙ্গে বিদেশে সামরিক সংঘাতে জড়ানো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান তাঁর আগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখাটিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য ও আচরণে একসময় সমর্থন দেওয়া ভোটারদের একটি অংশ এখন তাঁর অবস্থান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। নারী, হিস্পানিক, এশীয়, আরব ও আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের পাশাপাশি মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যেও অসন্তোষের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মাগা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লেখকের মতে, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পরিবর্তন না আনলে দলটির সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে।
লেখাটির শেষাংশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের সাম্প্রতিক অবস্থানকে ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতির প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং লেখকের ব্যাখ্যায়, এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক আচরণ ও বিভাজনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ।
| ফজর | ৪:৩৮ - ৫:৫৩ ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৩৮- ২:৫২ দুপুর |
| আছর | ২:৫৩ - ৫:১৮ বিকাল |
| মাগরিব | ৫:১৯-৬:৩৪ সন্ধ্যা |
| এশা | ৬:৩৫-৪:৩৭ রাত |
| জুম্মা | ১১:৩৮-২:৫২ দুপুর |