| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

চট্টগ্রামের অন্ধকার নেটওয়ার্কের মূল চরিত্র 'অহিদ সিরাজ স্বপন' এখনো অধরা!

রিপোর্টারের নামঃ সিএইচডি নিউজ ২৪
  • আপডেট টাইম : 11-10-2025 ইং
  • 96412 বার পঠিত
চট্টগ্রামের অন্ধকার নেটওয়ার্কের মূল চরিত্র 'অহিদ সিরাজ স্বপন' এখনো অধরা!
ছবির ক্যাপশন: প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ফ্যাসিবাদের দোসর অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন

জুলাই হত্যা মামলা, পাহাড় কাটা,  ভূমি দখল—সবই ছোঁয়া গেছে অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপনের নামে।


ফ্যাসিবাদের পতন হলেও চট্টগ্রামে এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ফ্যাসিবাদের দোসর অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন। জুলাই আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলার আসামি এই বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী মহলের চিরচেনা মুখ এখনো অধরা। মোবাইল নম্বর পরিবর্তন, গাড়ি বদল সবই করেছেন নিখুঁতভাবে। অথচ পুলিশ এখনো তাকে ধরতে পারেনি।


সূত্র বলছে, পাহাড় কাটা ও ভূমি দখল মামলায় চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিআর মামলা নং ৪৩০/২০২৪–এ তিনি ৬৭ নম্বর আসামি। এছাড়াও চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানার জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে স্বপনের নামে। কোতয়ালী থানায় একটি মামলার ৭৪ নং আসামী তিনি। অভিযোগ আছে—সাবেক পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি পাহাড়ের মাটি কেটে ডেভেলপারদের কাছে বিক্রি করেন। এতে এলাকার কৃষকরা হয়েছেন সর্বস্বান্ত, ধসে মারা গেছেন অন্তত তিনজন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায়ও নাম আছে অহিদ সিরাজের।


পাহাড় দখল ও মাটি বিক্রির সময় তার হয়ে কাজ করত সন্ত্রাসী বাহিনী, আর পেছনে ছিলেন প্রভাবশালী রাজনীতিকরা। শুধু হাসান মাহমুদ নয়—অহিদের উত্থানের নেপথ্যে ছিলেন সাবেক এমপি এম এ লতিফ ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চিটাগাং চেম্বারের পরিচালক হিসেবে লতিফের ছেলের নাম ভাঙিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে শুরু করে বাণিজ্য মেলার স্টল বরাদ্দ পর্যন্ত সবকিছুই ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। এছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দর ও কর্ণফুলী নদীতে লতিফের ছত্রছায়ায় অবৈধ মালামাল,  চোরায় তেলসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য জড়িত ছিল স্বপন। লতিফের সঙ্গে ঘনিষ্টতার সুবাদে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে কোটি কোটি টাকা ঘুষও নিতেন অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন।


২০০৫ সালের আগে যার নিজস্ব গাড়ি কেনার সামর্থ্য ছিল না, সেই অহিদ এখন একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি বাড়ির মালিক। ক্ষমতার সংযোগই তাকে বানিয়েছে কোটি টাকার মালিক। তার ভগ্নিপতি ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব ও পরে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুল করিম। ওই সময় চট্টগ্রাম পুলিশে বদলি-বাণিজ্যের হোতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন অহিদ সিরাজ।


এনবিআরের চেয়ারম্যান হিসেবে আব্দুল করিম দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বর্ণ চোরাচালান ও বন্ড কমিশনার বদলি নিয়েও কোটি টাকার লেনদেন করতেন তিনি। সেই সময় আলোচিত ‘ছাগল কান্ড’ এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের সঙ্গেও তার যোগসূত্রের অভিযোগ রয়েছে।


ছাত্রজীবনে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সিনিয়র সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন অহিদ সিরাজ। পরে আ জ ম নাছিরের প্রভাবে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক হন। সেখানেও করেছে ঘুষ, দখল ও টেন্ডারবাজির দৌরাত্ম্য।


চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই ঘুষ আদায়,  প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে চাপ সৃষ্টি, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভয় দেখানোর মতো কাজও করেছেন প্রকাশ্যে। কিছুদিন আগে তিনি মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেখানে পলাতক আওয়ামী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং অর্থ সহায়তাও দিয়েছেন নিয়মিত।


ফ্যাসিবাদের পতনের পরও যখন রাষ্ট্রযন্ত্র নতুন ন্যায়বিচারের পথে হাঁটছে, তখনো অধরা রয়ে গেছেন অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন চট্টগ্রামের ক্ষমতাধর নেটওয়ার্কের এক অন্ধকার নাম।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ CHD News 24 - সাথে থাকুন পাশে আছি
ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট আইটি নগর