| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কর্তার ক্ষোভের খেসারত দিল গ্রাহকরা

রিপোর্টারের নামঃ নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : 31-10-2026 ইং
  • 1831 বার পঠিত
কর্তার ক্ষোভের খেসারত দিল গ্রাহকরা
ছবির ক্যাপশন: বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় অচল বিআরটিএ কার্যালয়, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা।

এক কর্মকর্তার গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা থেকে শুরু হয় বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে চট্টগ্রামে সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে আরেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এতে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় অচল ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নতুনবাজার কার্যালয়। ভোগান্তিতে পড়েন শত শত সেবাগ্রহীতা। আটকে পড়ে যানবাহন, সৃষ্টি হয় চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কে তীব্র যানজট।



বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ষোলশহর সাবস্টেশন থেকে বিআরটিএ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। দুপুর ২টার দিকে পুনরায় সংযোগ চালু হয়। তবে এই সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম ও ব্যাংক বুথের লেনদেন।



বিআরটিএর উপপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সানাউল হকের অভিযোগ, পিডিবির ষোলশহরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সানাউল্লাহর ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।



সানাউল হক জানান, কয়েক দিন আগে নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল্লাহ তাঁর একটি গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করতে বিআরটিএতে পাঠান। কিন্তু গাড়িটির আইবাস কোডসংক্রান্ত অসঙ্গতি এবং প্রকল্পের গাড়ি কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার সরকারি বিধানের কারণে সেবাটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ছিল প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতা। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ব্যবস্থা করা হয়।



তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। পরে দ্রুত বিল পরিশোধের বিষয়টি জানার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়।



একই বক্তব্য দিয়েছেন পিডিবির ষোলশহরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। তাঁর দাবি, পুরোনো বিল পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়া হলেও সময়মতো বিল দেওয়া হয়নি। তাই নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়।



বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, জরিমানা ছাড়া মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদের শেষ দিন হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কার্যালয়ে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে ভিড় করেন শত শত মানুষ। সকাল ৯টায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা স্বাভাবিকভাবে কাজ চলে। এরপর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে থেমে যায় সব কার্যক্রম। বন্ধ হয়ে যায় ব্যাংক বুথের লেনদেনও। ফলে অনেক সেবাগ্রহীতা প্রয়োজনীয় টাকা জমা দিতে না পেরে ফিরে যান। কেউ কেউ হারান জরিমানা ছাড়া কাগজপত্র হালনাগাদের সুযোগ।



বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যালয়ের ভেতরে যানবাহনসহ আটকে পড়েন অনেকে। দূরদূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে যারা ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পেরেছিলেন, তাঁদের কাজ শেষ করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।



বিআরটিএর উপপরিচালকের দাবি, মাসে এক লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিলের বিপরীতে বকেয়া ছিল ৮৩ হাজার টাকা। তবে বকেয়া বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্নের কথা জানিয়েছে পিডিবি।



সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিল কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের প্রভাব যখন সরাসরি জনসেবায় পড়ে, তখন প্রশ্ন ওঠে—প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার দায় কেন বহন করবেন সাধারণ মানুষ? বৃহস্পতিবারের ঘটনায় সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ CHD News 24 - সাথে থাকুন পাশে আছি
ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট আইটি নগর